Welcome to Our Blog

রোজা রেখে রক্তদান

আমাদের মধ্যে অনেকেরই নেগেটিভ টেন্ডেন্সি আছে যে, আমরা ভাবি রোজা রেখে রক্তদান সম্ভব না। রোজা কি ভেঙ্গে যায়? রোজা হালকা হয়ে যায়? দয়া করে পড়ে দেখুন।

আমরা যারা রক্তদান নিয়ে কাজ করি, তারা ভালো করেই জানি, বিপদের সময় এক ব্যাগ রক্তের জন্য কেমন হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়। শুনতে খুবই সামান্য মনে হলেও আক্ষরিক অর্থেই তাই, এক ব্যাগ রক্ত = একটা নতুন জীবন।

তো, এবার আলোচনায় আসি, রোজা রেখে রক্তদান করলে কি রোজা ভেঙ্গে যায়?

না, মোটেও না, রোজা ভাঙ্গে না, এমনকি ‘হালকা’ও হয় না। এটা নিয়ে আসলেই বিতর্কের কিছু নাই।

মোটামুটি প্রায় সব মুসলিম স্কলার্স যা বলেছেন, মানুষকে সার্ভ করার চেয়ে ভালো ব্যাপার আর কিছু নাই, সে রোজা রেখে হোক আর না রেখেই হোক। রোজা রেখে রক্ত দিলে আরো বেশি সওয়াব। তবে আপনি তখনই দিবেন, যদি কারো একান্তই রক্ত প্রয়োজন হয়, এবং ততোক্ষণ পর্যন্ত, যতোক্ষণ না আপনি দুর্বল হয়ে যান।

তো, নরমালি আমরা কি করি?

আমরা কেবল মানুষের একান্ত প্রয়োজনে সাড়া দিয়েই রক্ত দিতে যাই। এক ব্যাগ রক্ত খুব বেশি কিছু না, ৪০০ মিলিলিটার, তিন/চার মাস পর এমনিতেই নষ্ট হয়ে যায়। আর রোজা রেখেও এই রক্ত দিলে সাধারণ হেলদি একজন মানুষের কিছুই হয় না।

অনেকেই ভাবি, রক্ত গেলে রোজা ভেঙ্গে যায়। আরেকজনকে রক্ত দিবো, না জানি কি হয়। রোজা হালকা হবে, পাতলা হবে, ভেঙ্গে যাবে, মরে যাবো, আমি শেষ, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিচ্ছুই হবে না, ট্রাস্ট মি।

ইফ ইউ ডোন্ট ট্রাস্ট মি, ইটস ওকে। দ্যান লিসেন হোয়াট ডঃ জাকির নায়েক সেইড। ডঃ জাকির নায়েক বলেছেন,

If blood donation to the recipient (whatever Muslim or not) is a must, blood donation is then permitted provided that the donor is healthy enough and does not donate a large quantity, and donation will bring major benefit to the recipient, does not lead to the loss of the donor’s life and is not made for money.

বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী সাহেব বলেছেন,

অতএব, আমাদেরকে শঙ্কিত না হওয়া উচিৎ যে রোজা রেখে রক্ত দেয়া যাবে কি না। রোজা রেখেও রক্ত দেয়া যাবে, শুধুমাত্র আপনাকে যদি ডাক্তার বলে, আপনি অসুস্থ রক্ত দেয়া যাবে না, সেই সময় ছাড়া সবসময় আমরা রক্ত দেবো এবং রক্ত দেয়ার জন্য আরেকজনকে উৎসাহিত করবো।

এই লাইনটাও পড়েন,

Hazrat Akrama (RA) narrated that the prophet (PBUH) had drawn blood out of his body with an instrument while he was in Ihram for Hajj and also while he was fasting.

তাছাড়া কোয়ান্টাম মেথড এবং অন্যান্য স্কলার্স কিংবা সোর্স যাদের উপর বিশ্বাস রাখা যায়, সবাই প্রায়ই একই কথা বলেছেন।

আপনি আপনার পরিচিত কোনো মুসলিম স্কলার্সের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, একই কথা বলবে।

কিংবা প্রথমে গুগলে সার্চ করে দেখুন কি কি কারনে রোজা ভঙ্গ হয়, সেখানে ‘রক্ত গেলে রোজা ভাঙ্গে’ কথাটা নাই (আমিও এতোদিন তাই ভাবতাম)। তারপর সার্চ দিন “Donate blood while fasting”, ইন্টারন্যাশনাল স্কলার্সদের কথাও শুনতে পারবেন। ইসলামী ব্লগগুলোতে খোঁজ করুন, উত্তর পেয়ে যাবেন। এই টপিক বহুত পুরানো, এবং এর সমাধানও বহুত পুরানো।

সুতরাং ভয় পাওয়ার কিছু নাই, রোজা রেখে রক্তদান করলেই রোজা ভাঙ্গবে না, মোটেই না।বিশ্বাস হারাবেন না, ভেবে দেখুন আপনার সামান্য রক্তের বিনিময়ে একটা জীবন বেঁচে যাচ্ছে। তবে খেয়াল রাখবেন, আপনি যদি শারীরিক ভাবে দুর্বল অনুভব করেন, ক্লান্ত থাকেন, তাহলে রক্ত দানে বিরত থাকুন।

সুতরাং, মুসলিম ভাই ও বোনেরা, রোজা রেখেও এগিয়ে আসুন। রক্ত দিন, জীবন বাঁচান।